বর্ণিকের বুদ্ধদেব গুহ স্মরণ সংখ্যা: আশিস মুখার্জী

 ##মাসিক বর্ণিক ( সেপ্টেম্বর সংখ্যা) -- স্মরণে বুদ্ধদেব গুহ। 


=========================

##কলমে - ✍আশিস মুখার্জ্জী, আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর , কাস্টমস এন্ড  ডিরেক্টর অফ রেভিনিউ ইনটেলিজেন্স , আসানসোল ,পশ্চিম বর্ধমান ( প্রাক্তন পাবলিক প্রসিকিউটর সি বি আই ,কলকাতা) । 



আচমকা আলাপ এই ইউসুফ মোল্লার সাথে অভিজিতদার" সই বই " গ্রুপে । তখন সদ্য প্রয়াত হয়েছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত । ওনাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন  মোল্লা সাহেব। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আমার খুবই প্রিয় এক কবি হওয়ার দরুণ ওনাকে নিয়ে লিখেছিলাম বর্ণিক এর জুন সংখ্যায় ," বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত- ক্যামেরা চোখেএক অনুভবী কবি"। সেই থেকে বর্ণিক এর গ্রাহক । সময় ও নানাবিধ প্রফেশনাল কারণে অতিব্যস্ততা হেতু একবারও দিতে পারি নি ফিডব্যাক বা প্রতিক্রিয়া,  যেটাকে আমরা বলে থাকি রিভিউ। যাই হোক এবারের সেপ্টেম্বর সংখ্যা হাতে পেয়ে আর অজুহাতের দোহাই দিয়ে পারলাম না থাকতে নিশ্চুপ।

   এবারের সংখ্যাটি বুদ্ধদেব গুহকে নিয়ে । বাংলা সাহিত্যে পড়েন,মনের কানাচে প্রেমের জাল বুনে চলেছে নিয়ত নানান মাকড়সা - অথচ একটু নিরিবিলি চাইবেন না তা কি করে হয় ? আর এই নিরিবিলিতে জমে ওঠে প্রেম জংলি পশু, পাখি , গাছ-গাছালি আর  আদিমতার গন্ধ মাখা চিনচিনে অনুভূতি নিয়ে । তাই তো আমরাও হারাই অরণ্যের গহীনে । সুতরাং প্রথমেই বলব বুদ্ধদেব গুহকে নিয়ে লেখা সবকটি লেখাই হৃদয় নিংড়ানো উজাড় করা ভালবাসা দিয়ে রাঙানো। তাই তো বলা হয়েছে , বুদ্ধদেব গুহ আসলে অরণ্য,  প্রকৃতি ও প্রেমের একটি ব্র্যান্ড ।

  কি নেই এই বর্ণিকে ? অসাধারণ চারটি গল্প,  একটি অনুবাদ কবিতা, মুক্ত গদ্য,  রম্য রচনা,  মন ভালো করে দেওয়া ছোট গল্প,  এবং বিস্মৃতপ্রায় অক্ষয় কুমার দত্তের দ্বিশতবর্ষে,  তার উপর তথ্য সমৃদ্ধ একটি সংগ্রহে রাখার মতো প্রতিবেদন ।  

  এছাড়া রয়েছে সুলেখক নিরঞ্জন মন্ডলের আঞ্চলিক ভাষায় ( সুন্দর বনের কথ্য ভাষায়) লেখা একটি মিষ্টি মধুর চাষবাস সংক্রান্ত গল্প , যা থেকে বিভিন্ন মনোগ্রাহী আঞ্চলিক শব্দ ও ছড়ার ছন্দে আঞ্চলিক প্রবাদ খুঁজে পাই । 

   পরিশেষে আসি আমার ভাললাগা ও ভালবাসার পীঠস্থান,  কবিতার আঙনে । প্রতিটি কবিতাই বেশ বলিষ্ঠ ও উন্নত মননের ছাপ রেখে যায় ।বুদ্ধদেব গুহকে নিয়ে কবিতার চালচিত্রে ফুটে ওঠে মাতাল করা আবেশ, "জঙ্গল মহলে যখন নামে কোজাগরী/ রাত, যখন হলুদ পালকেতে ভর করে/ বসন্ত উষ্ণতা খোঁজে একা চানঘরে/ পলাশতলির পথে শুরু হয় মাধুকরী ।" 

 কত অবলীলায় এখানকার কবিরা লিখতে পারেন, --  

শীৎকারের সুরে, "জীবন যেন সুতো কাটা ঘুড়ি ", কিম্বা 

" এক সাথে সহবাস প্রয়োজন মতো শূন্যতার গুনিতকে " । কবির চেতনার ছোঁয়ায় নদীর হয় গর্ভ সঞ্চার,  নারী শরীর আকূল হয় সুঠাম বলিষ্ঠ পুরুষালি ছোঁয়ায় ।রয়েছে স্বল্প পরিসরে লেখা অনবদ্য গুচ্ছ কবিতা । 

তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে মন কেড়ে নিল আমাদের প্রিয় লালাদা ওরফে বুদ্ধদেব গুহর হাতে লেখা অপ্রকাশিত দুটি চিঠি যা অধ্যাপক তরুণ মুখার্জ্জীকে লেখা। 

এত স্বল্প দামে ( মাত্র তিরিশ টাকার বিনিময়ে) এত সুন্দর একটি ম্যাগাজিন বাংলা সাহিত্যের আগামীর সম্ভাবনাকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপিত করছে , না দেখলে বিশ্বাস হয় না। সত্যিই অতুলনীয় এর প্রতিটি সংখ্যা সংগ্রহে রাখার মত। গ্রাহক হলে কেউ ঠকবেন না ,বরং হবেন সমৃদ্ধ ও ঋগ্ধ । 

*****************************************

Comments

Popular posts from this blog

মহা ধুমধামে পালিত হলো "মাতৃভূমি আবাসনের খুঁটি পুজো"

বর্ণিকে বুদ্ধদেব স্মরণ : সুখেন দাস